বাউদিয়া মন

 

মোঃ একরামুল হক জীবন

তোমরা এলাও শুতি আছেন, সারা আইত নাক ডাকি নিন্দ পারলেন । তাও তোমার নিন্দ হয়না? তোমার আক্কেল গেয়ান কিচচু নাই? এই গ্রামত কোন মানুষ টা আছে দ্যাখানতো মোক এত বেলায় বিছন্যাত শুতি আছে...
আজমল মিয়া নিন্দ ভাঙগার বিরক্তিভাব নিয়া ধমক দিয়া কুলসুম’ক কইল
এই তোর কি হইছে কতো শোনঙ... ক্যাচক্যাচি পোককা গুল্যার মতো ক্যাচক্যাচপার নাগছিস ক্যা...
কানের গোরত আও কারি মোর কাছা নিন্দকোনা ভাঙগি দিলু।
নজ্জা নাগে না তোমাক এগলা আও করতে ... বিছনাকোনা থাকি উটি দ্যাখোতো বেলাটা কোন্ঠে উটছে, দোলার হালুয়ার হাল সই হয়া গ্যালো , সুয্যটা মাথার উপরা খারা হইছে... বাড়ির মুরগি গুল্যা সেই কোনবেলায় খোয়ারা থাকি বেরাইছে আর তোমার এলাও ঘরের কোনাত শুতি আছেন...
হ... হ...মোর এইকনে নিন্দতে দিনকোনা শ্যাস হয়া গ্যালো। আচ্ছা পুতিদিন মোর কাছা নিন্দ ভাঙ্গি দেয়ার জন্নে তুই কিরা কারছিস নাকি।। তুই যেদন করি এই বিয়ানায় চিকরিব্যার নাগছিস যদি মোর বাড়িটা একটিয়ালি না হইল হয়। এতোকনে তোর চেকরোন শুনি গ্রাম ভাঙগি মানুস আসিল হয়।। তোক মুই ভাল করি চেনঙ...।। মুকতে তুই ১ মন বারা বানিস...
ও... আর নিজে খুব ভাল মানুস্ তাই ন্যা......নিজে দুনিয়ার আলসিয়া তাই ফির মানসের দোষ ধরি ব্যারায়... চালচলন দ্যাইকলে মনে হয় কতপা বেন জমিদার ।। ফুলবাবুর মতো ভাব ধরি বেরায়। এখনা লজ্জাও নাগেনা , এতো কথা ঘ্যাচরা মানুস থাকে... মোক আর আও এ করবার মনায় না...।
তা তোক আও করবার কয় কাই... মোর সাতে না ক্যাচক্যাচাইলে তো তোর আকাত আগুন ধরে না, তোর ।।মুখত ফেনা উটি গেইছে... যা এলা সলাই ট্যা দিয়া আকাত আগুন ধরাইনেক...।।
মোক কোনো কামের কথা কওয়া নাগবের নয়, নিজে ভাল হন। মোর আন্দাবারি কোমবেলায় শ্যাস হোচে।। এলা খালি মুক ক্যান না ধুয়ে যায়া গাসান,...।।
মুই কিস্তি দিব্যার গেনুঙ , তোমরা ভাত নিয়া খায়া গারি ধরি ব্যারে যান, আসি যেন ফির মোর চোকের সামনত না দ্যাখঙ ...
এই কথা কয়া কুলসুম কিস্তির বই হাতোত নিয়া ঘর থাকি বেইর হয়া গ্যাইল...। আর আজমল মিয়া গলা বড় করি জোরে জোরে বউক শোনায় শোনায় কবার নাগছে...
মোর খাওয়া হয়া গেচে, তোর মতো ক্যাচক্যাচানি বউ যার ঘরত আছে , তার নিন্দিআও শান্তি নাই , খাওয়াও শান্তি নাই।
পুতিদিন আজমল মিয়া ভ্যান না চলার জন্যে নানা রকম বাহানা খুজি বেরায় । কোনোদিন অসুকের বাহানা করে , কোনোদিন ঝগরা করি গোসা হয়া বারি থাকি ব্যারে যায়,... কুলসুম কিস্তি দিয়া আসি দ্যাখে তার সোয়ামি গারি নিয়া ব্যারে গেচে।।
কুলসুমের যতই আগ থাইক না ক্যান ...। আউডালে আউডালে আজমলের পুতি ভালোবাসার কোনো কমতি নাই... শুধু আজমল একনা বাউদিয়া দ্যাখি কুলসুমক এতো কথা কওয়া নাগে...। আজমল আলসিয়া মানুস হইলেও কুলসুমের কোনো কামে আলসিয়ামু নাই... বাড়ির সোগ কাম শ্যাস করি ঘর আইগন্যা সামটি থুইয়ে গাও ধুয়ে আসতে কুলসুমের বোইকাল হয়া গ্যালো ...। আর এর মধ্যেই আজমল ভ্যান গারি নিয়ে বারিত আসিল... গারি গাছের তলোত থুইয়া আধামরা উগিগুল্যার মতো ঢুলতে ঢুলতে আসি বারান্দাত বসিল... কুলসুম দ্যাখিয়া চোখ দুইট্যা উল্ডিয়া কওয়া শুরু করিল
তোমরা আজক্যা কতো ব্যালা করি গারি খ্যান নিয়া ব্যারে গ্যেলেন ফির এই বোইক্যালোতে বারি আইসলেন ক্যা// আজমল মিয়া নরম সুরে কইল।।
আজক্যা মোর শরিল ট্যা ভাল নাই রে , গাও পাও এ খুব বিশ ।। সোগগুল্যা আস্থা নয়া করি বাইনছে , সারা আস্থায় বালাতে ভ্যান টানায় যায় না... আজক্যা ফির ভারাও একনা কম...
গারি থুওয়ে তোমরা মোরের মধ্যেকোনা আটকোটা খ্যালান ... তা তোমরা ভারা পাইবেন ক্যামন করি।।
হইচে এলা চুপ করি থাক । মোক এক গেলাস পানি দেতো ।। তিয়াসে মোর বুকট্যা ফাটি যাবার নাগচে... এই কথা কয়া আজমল মিয়া তার ঘারের গামচা দিয়া গলা আর মুকের ঘাম মুছপার নাগচে।। কুলসুম তার সোয়ামির উপরা আগ করি যায়া জোরে জোরে কল ঠাসিউয়া ছোট ঘরা দিইয়া এক ঘরা পানি আনি আজমলের হাতের পাশত ধ্যারত করি থুইয়া ঘরত গ্যালো... আজমল ঘরা মুখত বাজেয়া গদগদ করি অদ্যেক পানি খাইল। কুলসুম কুলাত করি চাইল নিয়া বারান্দাত বসিইয়া চাইল বাচপ্যার নাগিল... আর আজমল কুরা গ্যালো গাও ধুব্যার জন্যে ।। কুলসুম তারাহুরা করি চাইল বাচা শ্যাস করি আগনাত ভাত দিইয়া মুরগি গুল্যাক ডাকপার নাগচে... আজ হাটের দিন সেই জন্যে ৫ টা ডেকি ব্যাচপার দিবে।। আজমল মিয়া গাও ধুইয়া আসি খাওয়া দাওয়া শ্যাস করি শাট গাত দিয়া বোতাম নাগায় আর কয় ...
কই রে কোন্ঠে গেলু- ব্যাগ টা দিয়া যাতো ... কুলসুম ব্যাগ টা আর ৫ টা চরাই নিয়া আসি খারা হয়া আচে। আজমল মিয়া লঙগি ভাল করি পেন্দে আর কয় ।।
এগলা এলায় ব্যাচাইস ক্যাতা...? আর একনা বড়ো হউক।
 মুই শক করি ব্যাচাঙ ......। তোমার তো কোনো কথাই মনে থাকে না।। ইয়ার আগের কিস্তি ট্যা শামসুলের মারটে ট্যাকা ধার করি আনিইয়া দিচনুঙ ... সে ট্যাকা দিচেন তোমরা? মুই ভাবিক মুক দ্যাখপার পাঙ না আর তোমার ট্যাকা দ্যাওয়ার কোনো নাম গোন্দো নাই... এগল্যা ব্যাচেয়া সোগ ট্যাকা আনি মোর হাতোত দিব্যান... আজমল ব্যাগ ট্যা হাতোত নিয়া কয়।।
এলা হাটত যতো হাস চরাই ওটে নেওয়াইয়া লোক নাই... সগাই খালি আইল্লা দাম কয়... একনা পরে তো সোনদা নাগি যাইবে... থাক আজক্যা পাইক্যার ডাকে আসিম এলা ...।
 ও......... নিয়া যাবার নন এগলা তার নছল্লা ... তোমরা তো ফুলবাবু ...। মানসে তোমার হাতোত চরাই দ্যাখলে তো তোমার মান সরমান কমি যাইবে । এই কথা কয়া কুলসুম আগ করি চরাই গুল্যা ছারি দিয়া ঘরত গ্যালো ... আজমল আগনাতেই থাকিইয়া কইল...
আজক্যা হাট থাকি আইসতে মোর একনা দেরি হইবে,... ওডেকোনা ভাওয়াইয়া গান হইবে ... খরচ করি নিয়া গান শুনি বাড়ি আসিম... এই কথা কয়া আজমল মিয়া বাড়ি থাকি বেইর হয়া গ্যালো... কুলসুম ঘরের ভিতরা থাকি জোরে জোরে চিকরিয়া কবার নাগচে।।
যাও যাও... বাউদিয়া মানসের কি আর সঙসারের চিন্তা ঝামেলা আচে ... কোনঠে খ্যালার আসর , কোনঠে গানের আসর এগল্যা খুজি ব্যারায় ... মুই আজক্যা আন্দা বারি কিচ্চু করব্যার নঙ ... বেশি করি গান খায়া আসি বারানদাত শুতি থাকেন... মুই আজক্যা দুয়োর ও খুলি দিব্যার নঙ ............।

মোঃ একরামুল হক জীবন
মোগলবাসা, কুড়িগ্রাম

(আও পত্রিকায় পাঠানো লেখা থেকে)

Post a Comment

Previous Post Next Post