যুয়ান বশের গোসাই


ভবেশ চন্দ্র বর্মন  

যুয়ান বশের গোসাই,দেহাটা এলাং টনটনা। ব্যইস ঢকের চেহারা। সলসলা ঢাংয়া,গাটুম গুটুম দেহা। লম্বা চেপ্টা কপাল, মাথাত কুচকুচা কালা আর কোকোরা কোকুরী চুল। টকটকা কাঁচা হলদির নাকান গাওর অং। লম্বা কপালোত সুন্দর করি,ঢকের তিলক কাটিছে। মুখোত সুন্দর করি আওরায়, " জয়,রাধে,রাধে"। পাঁচ,দশ বাড়ী ঘুরি মাধুকারী তোলে,নিজে হাত পাও পুড়ি,আন্ধন বারন করি গোবিন্দোক ভোগ নাগায়,ভোগের পরে,নিজে সেবা নেয়। গোসাইটার আদি বাড়ী,এটেকোনা না হয়।অর্ত্তি,কুর্ত্তিকার ভাটি থাকি আসিছে। এটেকোনা নিপুচা ধনীর বাড়ী আসি জাগা নিছে। ধনীর বাড়ীত কোনার ঘরোত থাকে। ধনীর শোধে আগের জানা শুনা ছিল। ভেল্ল্যা মাইনষি মেল্ল্যা কাথা কয়।

   আগোত নিপুচা ধনীর ভঈষ চড়াইছে।জাগার  মঙ্গা,ঘাসের মঙ্গা,পোকার নাকান মাইনষি উপজ্জি উপজ্জি মেল্ল্যা হলেক,আর  কিলবিল করে।নিপুচা ধনী ভঈষের হাড়োবেঁচে ফেলাইলেক। সৌগ মইশালের চাকুরী চলি গ্যইল।মইশালেরা যার যার মতোন দেশে ফিরি গ্যইল।  যুয়ান বশের গোসাইও ভাটির মাইনষি,ভাইটে গ্যইল।
বাড়ীটা উংয়ার এলাং  শীতলকুচীর লাল বাজারের  হরিনকুচী গেরামে রচিল । বাড়ী ফিরি গিয়া গোসাই বিয়া থা করি সংসারী হলেক।গোসাইর বাড়ীত একটা নাম ছিল,সেটা হলেক লালচান মোহন্ত। বংশাবলী আগা গোড়ায় গোসাই।লাল চানোক বাপ ও মাও দেখি শুনি অগলে বগলের কঈনা দিয়া বিয়াও দিলেক।  কঈনার বাড়ী আদা বাড়ী জয়দুয়োর। কঈনার নাম ফুলমনি।ব্যইশ সুখে  সংসার করি দিন কাটে।লালচানের বাপ মাওর বয়স  ব্যইশ ভালে হচে। মাও বাপের মনের সখ, একেনা নাতি হোলে ভালে হয়। আড়ে ঠারে বনুষ কোনাক কয়।  বনুষ কোনা কয়,"ভগবানের দান, ভগবান ফল না দিলে মাইনষির করার কিছু নাই। "ক্যানে ফল ধরে না,তাও জানে না।"

     এলাকার দিনের নাকান তো স্যালা আর এত গাইনোও ডাক্তার রচিল না। ওঝা, বৈদ্যর উপর ভরসা। স্যই নাকান ফুলমনিও  ফল ধরে না। এক ওঝার সম্বাদ লালচান পাচিলো।ঐ ওঝাক ভেল্ল্যা সাধ্য সাধনা করি নিয়া আইছিল।ওঝার ফর্দি মতন,লালচান বড় মরিচার হাটের থাকি খরচা পাতি করি আনে। লালচানও খরচাপাতি কইরতে কোন কইস্টামি করে নাই।ওঝা ফুলমনির ঘর বনধ করি তাবিজ জাফ পাকে দিয়া গ্যইল। ওঝা যাবার সোময় কয়া গ্যইল,তিন মাসের ভিতোরা ফল ধরিবে,ফল ধরিলে মোক খবর দিস। স্যালা আসি আরও কাজ করির নাইগবে।  নানা নাকান  কাম,ঘর বনধ,তাবিজ জাফ এইল্যা দিয়া ওঝা এক হোমচা টাকা  ডাংএ ধরি গ্যইল। 

মাস তিনেক পরে লালচান জানির পালেক,ফুলমনি ফল ধরিছে।স্যালা একদিন সোক্কালে  লালচান ওঝার বাড়ী হাঁটা দিলেক।ওঝার বাড়ী আসি,লালচান ওঝাক সৌগ কাথা খুলি কলেক।ওঝা সৌগ শুনি,লালচানোক আরও একেনা লোম্বা দীঘিলা ফর্দি দিলেক,আইসা শনিবার,আসি দিশা,কাটা চেড়া,এইল্যা কইরবে। শনিবার সান্জোত ওঝা লালচানের বাড়ী আসিলেক। লালচান পাঁচ নাকান, নাল সাদা,হলদিয়া,বেগুনী  ফুল তুলিছে। কলার নিলাজি,বিন্নার পাতা,কালাকচু,মানার ডেরা,উওরা বাগের জল,নাও এর জল,সাত চুয়ার জল, জোগে আনিছে। বড় মরিচার হাট থাকি দশ হাতি ঢকের দেকনেয়ালা একান শাড়ী।ষোলটিয়া কলার ঝুকি চিড়াদই,ভূভুরা,সুটকা মরুচ  পোড়া, তেল নুন দিয়া সৌগে মাখে নিছে।সোলার পুতুলা একেনা ওঝা বানে আনিছ।যাক তুলসীমারী বগলোত দিশা  কাটা চেড়ার তানে ওঝা বইসলেক।এইল্যা করইতে আতি অনেকটা হয়া গ্যইল। যাক এলা লালচান ও ফুলমনি খিবে খুশিতে রচে। লাল চান নিজের কোনেক  বাপ কালিয়া জাগা রচে, ঐকোনা নিজে আবাদ করে।সেকোনার যেকোনা ধান হয়,তাতে গোটায় সালের খাবার  হয় না। এটেকার জমিত, তাংকুর আবাদ ভালে হয়।লালচানও দুই চাইর দোন তাংকু আবাদ করে,তাংকু বেচে যেকোনা,পয়সা কড়ি পায়,তাতে দিন চলি যায়। মঈশালি করা মাইনষির মনটা ঘরোত বসে না মাঝে মইরধ্যে বাউদিয়া হয়া বিরি যায়।ওটেকোনা হরিন -কুচীত খৈচালু গিদালের কুশানের একটা দল রচে,ঐ দলটাত,লালচান রাজা হরিশ্চন্দ্র, লক্ষন,মেঘনাদ,তরনীসেন,নানা পাট করি,মানষির মন জয় করি নিচিল।সগায় উংয়ার পাট করা দেখি, তাক খায়া যায়।
  
হরিনকুচি,শীতলকুচি থানার ভিতোরা এলা যেটা, বাংলা দেশের সীমনা ঘেষা।লালচানের বাড়ীর থাকি কোনেক দূরতে,কাটাতারের  কপকপা চাটি হামার সরকার বানে দিছে লালচানের যতকোনা জাগা জিলাত রচিল, গোটায় কোনায় কাটা তারের ঐপাকে পড়িছে। কাটা তারের ঐ পাকে যায়া,জাগা জিলাত আবাদ করা এলা খিবে ঝামেলা,সীমানা বাঁচা,দেশকে বাঁচার বাদে,যিলা পল্টন পাহাড়া দার রচে।ইমরাই ইমার মজ্জি মতোন,কাটা তারের চাটির ঐ পাকে যাবার ও আইসার সোময় ঠিক করি দেয়।সোক্কালে গামলাত আতির কড়কড়া বা পন্তা ভাত, তরকারীর কোনেক পেরপেরী আর না হয় নুন মরুচ,পিঁয়াজি দিয়া গামছাত বান্ধি,হালগরু,লাঙ্গল,জোয়াল,পেন্টি,হারচিনি,বেঁদা কোদাল,কাঁচি,হাঁসুড়া, হুকা তাংকু ভূতি,জলের বালতি সৌগে নিয়া  ঐ পাকে যাবার নাইগবে।বেলা ডুবার আগে আবার ফিরি আসির নাইগবে।ঝাঁকে পালে যার মাইনষি রচে,তার কোন অসুবিধা হয় না। একলা মাইনষির যে ঝামেলা এটা,বুঝিরে পান।লাল চানোক এংকরি আবাদ করির ভালে নাগে না।কাটা তারের বেড়ার ঐ পাকে একবার গ্যইলে,এদি বাড়ীত,কোন অসুবিধাত পড়িলে ফিরি আসার কোন সুযোগ সুবিধা নাই।সাগাই সোদর আসিলে,উমারো সোতে দেখা করার কোন উপায় থাকে না। এইল্যা কাথা লালচানের মনোত খিবে বিন্ধির নাকান  বিন্ধায়।কার বা কোন  স্বার্থে দেশটাক এংকরি ভাগ করি দিয়া নিজের মজা লুটে নিলেক। জাগায় জাগায় হলেক কুড়া,আর  ঐ জাগাত হলেক মুুকুট ছাড়া রাজা,একবার ক্ষেমতা দখল করির পালে কয় পুরুষ ধরি,বসি বসি খাবে। পাশের দেশটা ভাগ হয়া আলাদা হলেক।লালচান কয় হামার ভাই ভাইগোর কাহো দেশ ছাড়ি,এদেশে চলি আসিল,আর কাহো ওটে পড়ি রলেক।এলা যেটা  বাংলাদেশ কয়,ঐটা ঐ সোময় পূর্ব পাকিস্তান  ছিল।আলাদা দেশ, আলাদা কৃষ্টি,কালচার,খানা পিনা,ভাষা ধর্ম,পূজা পারন, আচার, অনুষ্ঠান, সৌগে আলদা,কিন্ত এটেকার মাইনষি গুলাক আলাদা ভাষা,ধর্ম চাপে দিয়া দিনের পর দিন পশ্চিম পাকিস্তান  চুষে খাওয়ার একটা খামার বাড়ী বানাইছে। খামার বাড়ীর থাকি সাল শাল লুটে নিয়া যায়।পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীরা টের পায়া লড়াই যুজ শুরু করিল।পশ্চিম পাকিস্তানের  ভূট্ট আর ইয়াহিয়ার জল্হাদ হার্মাদ গুন্ডাগুলা পূর্বপাকিস্তানে একটা ম্যাচাকার কান্ড ঘটাইল। এই ম্যাচাকার কান্ডে,হিন্দু  মুসলমান সগায় পালে আসি ভারতের শরনার্থী  ক্যাম্পোত জাগা নিলেক।ভারত সরকার সগারে দায় ভার ঘাঢ়ে নিয়া খোওয়াইল,পড়াইল দেশটার হয়া যুঝ করি  দেশটাক স্বাধীন করি দিল। মজিবর রহমান,বন্ধীমুক্ত হয়া দেশটার শাষন ভার নিলেক।স্যলা দেশটা নাম জয় বাংলা হইলেক।পরবর্তীতে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ নামে পরিচিতি পাইলেক। যাক হিলা নিয়া লালচানের ভাবার কিছু নাই।দেশের দশের বড় মাথা মাইনষিগুলা ভাইববে।দেশটা স্বাধীন করির যায়া কত মাইনষির,কত নাকান বুক ফাটা কাহিনী রচে। লালচানেও কোনেক দেশটা স্বাধীন হওয়ার পাছোত  একটা খিবে করুন ঘটনা রচে।

এই কাহিনীটা জের ধরি,আজি মুই যুয়ান বশের গোসাই ইয়াহিয়া আর ভূট্টর পল্টন গোটা বাংলাদেশে,লুটতরাজ, নারী ধর্ষন নানা নাকান অপকর্মে,মাইনষিক অতিষ্ঠ করে তোলে।এই নাকান পরিস্হতিতে ভারতবর্ষ হাত নাগালে, যুঝ বাধে।দিন সাতেক যুঝ হয়।যুঝে পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যদের হোতামুখ ভোতা নাগে দেয়।যুঝে ভারতের  ভেল্ল্যা মাইনষির ক্ষয় ক্ষতি  হয়।পাকিস্হানী সৈন্য পালে দেশে ফিরি যায়। যিলা ফিরি যাবার পায় নাই উমোরা মুক্তি যোদ্ধার হাতে,মারা পড়ে। লালচানের কাথা আগোত কোনেক কওয়া ছিল,মনে না থাকিলে খেয়াল করি দেং।লালচানের বনুষটার সবে, ওঝার দিশা কাটাচেড়া ঘর বনধ করিছে, তার ফলে কোনেক আশা মনে ধরিছে। ফুলমনির গাও ভারি হচে আর ফল ধরিছে।ফলটা বড় হবার নাগিছে,আর ফুলমনির গাও ভারী হবার ধরিছে।সোক্কাল বেলা,ফুলমনি আইদোর বাড়ীত কামাই করির নাগিছে। ঐ সোময় কোটে থাকি একটা পাকিস্তানি  সৈন্যর শেল আসি ফুলমনির গাত পড়িলেক।গাত পড়াও শেষ,ফুলমনিও শেষ।গছ ফল দুইটায় মরি ধূয়া হইলেক।লালচানের সেই  ডুকুরী কান্না কাটি,মনোক কিছুতে থিতু করি বোদ দিবার পায় না।কান্দি কান্দি লালচান পাগলা হয়া গ্যইল।থানা থাকি,পুলিশ যায়া,লাশ ধরি থানাত আনিলেক,পরে কি পরীক্ষা নিরিক্ষা, দেহাটা চাক করি (Post Mortem) পরে লালচানোক ফিরি দিছিল। লালচান বাড়ীর বগলের গিরিধারী নদী পারোত সৎকার করিলেক। তের দিনে শ্রাদ্ধ  শান্তি,ধূমালি,গৈর ভক্তি, দশোক খোয়াইলেক। লালচানের,বুড়া বাপটা আর বুড়া মাওটাক নিয়া বড় ক্যাচালোত পড়ি গ্যইল, কায় আন্ধি বারি খোওয়ায়। লালচানের মাও লাল চানোক কয়,"এংকরি কদ্দিন আরও হাত পুড়ি খাবু,গরীবের একটা ছাওয়া দেখি বিয়া করেক।" লালচান ভাবে মোর বশটাও তো কম নোংয়ায়,কমবশি  একটা ছাওয়াক বিয়া করার কোন মানে হয় না।  মাক এ কাথা ক্যংকরি বোঝায়। উংয়ার মাও স্যলা আরও কয়,"তাহলে মেল্ল্যা না,ছত্রদানী, গাবুর আঁড়ি,রচে  ঐল্ল্যায় একটা ধরি আয়। "মাক বুঝি কয়, লালচান, "ঐল্ল্যা হওয়ার না হয়  মা, আর মুঈ নয়া করি ঝামেলাত ঝড়ের চাং না" পরার ছুয়া পাতোত আর খাইম না।মাও কয়,"দেখেক য্য-টা ভাল বুঝিস,স্য-ইটা করেক"।

মানসাই,ধরলা খুঠামারা দিয়া হলহলে ভেল্ল্যা জল বয়া গ্যইলেক,লালচান একে জাগাত খাড়ে রচে।বাপ কালান্তি নাড়ীপোতা,ভিটা ছাড়ির পায় না।ঐ ভিটাতে বনুষটা মরিল,বাপ,মরিল,মাওটাও মরিল।কাটাতারে চাটি হামার সরকার গড়ে দিল।কাটাতারের চাটি ঐ পাকে গিয়া কদ্দিন জমি জিলাত আবাদ করিল।এলা বশটা হয়া গ্যইছে,দেহাটা আর চলে না।এংকরি জমি জিলাত করির ভাল নাগে না।এলা জমি বেচের চাইলে গাহাক,তাও পাওয়া যায় না।জমির আধা মাঙ্গনা দর করে।কাজে এলা উঠোন করা আবাদ করির ইংয়াক, উংয়াক ছাড়ি দেয়,আধা মাঙ্গনা ভাগ বাটা দেয়।এংকরি লালচানোক ভালে নাগে না।মনোত জিদ ধরিলেক,যে দামে পাং জমি জিলাত বেচে দিম।জমি বেচা টাকা ধরি সৌগ তীর্থদর্শনে যাইম।যেই কাথা সেই কাজ।বৈরাগীর হাল না বাপ বাপু,আমল থাকি রচিল।সৌগ তীর্থ দর্শনে যাওয়ার আগে পাকাপোক্ত বৈরাগী হয়া গ্যইল।লালচান মোহন্ত  থাকি,লালচান ব্রজবাসী  হয় গ্যইল।বাড়ীটাত রাধা গোবিন্দের সেবার তানে একেনা ছোট করি রাধা গোবিন্দের মন্দির বানে নিলেক।স্যালা সগায় লালচানের বাড়ীটাক লালচান বৈরাগীর আখড়া কয়।এলাং লাল চানের আখড়া কলে ওটেকার ছাওয়া থাকি শিয়ান সগায় দেখে দিবে। লালচান সৌগ তীর্থ দর্শনে বের হয়া সেই গ্যইল,আর আখড়াত আগোত মাঝে সাঝে আইসতো,এলা না আর আইসে না।
ভূটান না হয়,রাজধানীতে অত্তি কোটেকোনা থাকে, আগোত গাবুর বয়স কালটা কদ্দিন অত্তি মঈশালীর কাম করি বেড়াইছে।অত্তি উংয়ার মেল্ল্যা চেনা জানা মাইনষি রচে।খবর নিয়া জানা গ্যইল তোর্ষা নদীর পাড়োত, পুটিমারিত নিপুচা দেওয়ানীর বাড়ীত থাকে। 

বৈরাগী মাইনষি কোন ঝামেলা নাই,দশবাড়ী মাগি দুইবেলা  নিজে হাতে আন্ধি বাড়ি খায়।দিন ভালে কাটি যাচে। নিপুচা দেওয়ানী,মঈশের হাড়ো এলা নাই,ধীরা আর বড় ঘান্টিগুলা এলাং দাড়িয়া ঘরোত টাঙ্গি থুইছে।ঐল্ল্যা বড় মনোত পড়া জিনিস হয়া রচে।জমিজিলাত তাও আটে গ্যইছে,কিছুটা জমি তোর্ষা নদী ভাঙ্গি নিগাইছে।কিছুটা  জমি আধিয়ারেরা বামফন্টের সোময় খাস,ভেস্টেট  কয়া জমিগুলা জোর করি দখল করি নিছে। ঐ জমি নিয়া  ভেল্ল্যা মামলা মোকদ্দমা  এলাও  চলছে।যিলা জমি জিলাত এলাও রচে,তাও একলায় আবাদ করির পায়না। দুই একঘর  খিবে বিশ্বাষী আধিয়ার রচে। উমোরায় আবাদ করে, আর দুই একজন উঠোন করা,আবাদ করে। নিপুচা দেওয়ানীর দিনকাল আগের নাকান এলা আর নাই। কাহোয় আর মান্যি করির চায় না। সংসারে কোনেক অভাব 
অনটন ডুকিছে।আগের নাকান আর দাড়িয়া ঘরোত কামলা কিষ্ষান চাকিরানদারের দরদরি গমগমি নাই। বাড়ীর বায়রাত একেনা কোনার ঘর বানে ওটেকোনা লালচান  থাকে। নিপুচা দেওয়ানীর আধিয়ার নাগুরু,মেল্ল্যা দিন থাকি আইদারী করে। নাগুরুর এলা বশ হয়া গ্যছে, নাগুরু ব্যাটাগুলা, এলাও আঈদারী করে। চেংড়াগুলাও বাপের নাকান খিবে ভাল,কোন নাকান কাজিয়া করে  না। কোন ঝামেলা কেচাল কীর্তন য্যইটে,স্যইটে উমরা নাই। নাগুরু দুইটা ব্যটা আর একটা ব্যটি।ব্যটা দুইটার বিয়াও দিছে।কঈনা ছাওয়াটাও পরক্ষেত্র করিছে।ছাওয়া টার নাম শুকানী,ভালে স্বচ্ছ্বল ঘর দেখি বিয়া দিছিল। জমি জিলাত ভালে আছিলো। সারা সাল ঘরের ধানের ভাত নিজের জমির শাক,পাতা তয় তরকারী দিয়া দিন নিগরান করে।

একটা কাথা কয় না,সগারে সুখ কপালে সয় না। শুকানীর কপালেও সুখ সইলেক না।একেকোনা চেংড়া ছাওয়া কোলাত আসার সাল ঘুইরতে  না ঘুইতে, শুকানী সোয়ামী কি অসুক শুরু হলেক।এই ডাক্তার,সেই ডাক্তার দেখায়,তাতেও কিছুই য্য-লা না হয়,স্য-লা চেন্নাই, ভেলোর,কলিকাতা মেল্ল্যা জাগাত দেখাইলেক।শেষ মেষ মুম্বাইর টাটাত ডাক্তার দেখের নিগির কইল।স্য-লা টারি বাড়ীর সগায় কয় আর কোন আশা নাই।এই কাথা শুনি শুকানীর বুকখান,নদীর আদ্ধাং ভাঙ্গার নাকান ভাঙ্গে। হালের গরু,জমি বন্ধক থুইয়া,টাকা পয়সা ভাও করি মুম্বাই নিয়া গ্যইল।মুম্বাইত ডাক্তার দেখে,এই পরীক্ষা  সেই পরীক্ষা  করি,ডাক্তার কয়দিন ভর্তি করি রাখিলেক তারপর যে  ফলাফল জানা গেইলেক,তাতে ডাক্তার কলেক এটা শেষ পর্যায় আসি গ্যইছে,গরীব মাইনষি কারিকাড়ি টাকা খরচ হোবে,এই বাদে রোগী নিয়া বাড়ী যাও।এলাকার নাকান স্যালাও চিকিৎসার খিব একটা উন্নত হয় নাই।বাড়ীর অর্ত্তি,চিকিৎসা  কর,তাতে যোদি, দিন কতক বাঁচে,এই আশায় আশা নিয়া থাকো। ডাক্তারের কাথা শুনি,রোগী নিয়া বাড়ী ফিরি আসিলেক। এংকরি বাড়ীত থুইয়া চিকিৎসা করে,মাঝে মাঝে নিগি মাথাভাঙ্গা,শীতল কুচী হাসপাতালোত ভর্তি করে। এংকরি টানা হ্যাচরা করি,শুকানী জীবন টা অতিষ্ঠ  হয়া গ্যইল।


যায় থাকার না হয়,তাক শুকানী ধরি রাখির পাইল না।একদিন সগারে মায়া ছাড়ি শুকানীর সোয়ামী ঐপারে চলি গ্যইল। শুকানী সোয়ামী হারার শোক পাসরিতে এক সাল কাটি, গ্যইল,তাও শুকানীর মনের বুড়া হাং হাংয়া ঘাউয়াখান শুকায় না। মনোত ঘিসঘিসা তুষের অগুনের নাকান জ্বলি মনটাক পুড়ি ছাই করিছে।মনটাক কিছুতে বোধ দিবার থিতু করির পায় না।সৌগ সোময় শুকানী মনোত একটা বড় জ্বালা  নিয়া থাকে।শুকানী আগোত যেংকরি,খিবে,কলকলে কাথা কয়,আর হ্যাঁ হ্যাঁ করি হাঁসে,এল আর আগের নাকান হাঁসির পায় না।মনোত খিব একটা শান্তি নাই।গাবুর চিকন আড়ি,গোটায় বশটা পড়ি রচে,গাবুর আড়ি,দেখি সগায় আড়েটারে দেখে,বগলোত বসি কাথা কওয়ার বাদে,কিছু ঢ্যমনা চোক--চোক করে। শুকানীর গাও এর অংটা কোনেক ঘসা হলেও,চেহরা ছবি খিবে দ্যখনেয়ালী,মাতাত কাঁচা শাকের নাকান চুলে ভরতি,চুল বান্ধিলে বড় ঢালুয়া কোঁপা,এলাং শুকানীর হাঁটা চলা দেখিলে,চেংড়া বুড়ার মনোত আমপানের ঝড় তোলে।শুকানীর মনটাক  কাহোয় গলের পায় না।শুকানী মনটাক টনটনা করি, রচে।মাও বাপ আর শশুড় শাশুড়ী আর একেনা চেংড়া রচে ইমার মুখের দিকে তাকে,শুকানীক মন শক্ত, সুমার করি বান্ধি  থুবার নাগিবে। 


একটা কথা কয় না, কার মন যে কেংকরি,কার  তানে উড়াং বাইরাং করে। শুকানী দিন কতক শশুড় বাড়ীত থাকে,দিন কতক বাপের বাড়ী আসি থাকে।শুকানী বাপের বাড়ী য্য-লা আসে,স্য-লা দুই চাইর দিন এদি অদি ঘুরি বেড়ায়,আর গিরির বাড়ীও যায়।যাওয়া আইসার কইরতে ঘাটাত ঐ যুয়ান বশের গোসাইর শোধে মাঝে মইধ্যে অচমকা দেখা হয়।গোসাই শুকানীক দেখি,জয় রাধে,কয়া ডাকে,ঐ ডাক-টাত শুকানীর মনটাত চৈত মাসিয়া হুরকা উঠে, হুরকার ধূলা আন্ডুলি ঘুন্নি পাক খায়া আইসে।ক্যানে এই ঢক হয়,শুকানী বুঝি উঠার কিছুতে ঠাহর করির পায় না। যে কয়দিন বাপের বাড়ীত থাকে,সেই কয়দিন, দিনাং দিনাং যায়া যুয়ান বশের গোসাইর সোতে দেখা করে।"যুয়ান বশের গোসাইরও মনটা এদ্দিন কাও আউলি দিবার পারে নাই,এই গাবুর চিকন আঁড়িটা ক্যানে এংকরি হুরকা তোলে মনটাক ঘর ছাড়া করে।গোসাই মনোক বোধ দিয়া বুঝি সুঝি  থোয়।হিলা ভাবনা মোর এলা শোভা পায় না।ভরা গাবুর বশটা,ফুলমনি মরার পরে যেংকরি কাটি দিলুং।কাহো মোক কিছু কবার পায় নাই।এলা ক্যানে মনটা মোর বারে বার খোকড়ে উঠে।"দেহাটা মোর টে কিচ্ছুই চায় না।মনটা ক্যানে এই ঢক করে।"গোসাই ভাবে,"সগায়  মোক সাধু,সাধু কয়,মোর এইল্ল্যা কাথা ভাবাটা ঠিক হোবে না।"গাবুর চিকন আঁড়িটা,যুয়ান বশের গোসাইটাক  কোন দিন,এমন কাথা কয় না,যেটা গোসাইর মনে চৈত মাসিয়া ঘুন্নি পাঁকের নাকান মনটা পাকায়।যুয়ান বশের গোসাইও  এমন ধারার গাবুর চিকন আঁড়িটাক কিচ্ছুই কয় নাই। গাবুর চিকন আড়িটাও কি যে দিন আতি আকাশ পাতাল ভাবে,আর বাইষালি দেয়ার নাকান করি হোলহোলে নুকি আইতোত কান্দি কান্দি বালুষ ভিজি ফেলায়। যুয়ান বশের গোসাই,কছিল,"এই জীবনটাত কোন কিছুই টিকে রবে না। "জয়'রাধে তোরো একদিন মাথার চুল পাঁকি ফুলফুলা ধপধপা সাদা হোবে।দাঁত গুলা তাও ভাঙ্গি  মুখকোনা ফোঁকলা হয়া যাবে। স্য-লা আর সেদিন কাহো তোর দিকে তাকাবে না।হামার এই যে বায়রার ঢক দেখি,সেই ঢক আসলে কিছুই নোংয়ায়, এই ঢক দেখি একটা বেটাছাওয়া মাইনষি,একটা বেটিছাওয়ার দিকে যেংকরি তাকায়,আসলে ওটা একটা বেটি ছাওয়ার ফল ধরার য্যালা ক্ষেমতা উপজে, ঐটায় বেটি -ছাওয়ার আসল ঢক। বেটা ছাওয়ার ঢকটাও ঠিক ঐ নাকানে য্যালা একটা বেটা ছাওয়ার বীজ  ফেলালে ভূটকি বেরাবে,এই ক্ষেমতা উপজে,স্যালায় ব্যাটা ছাওয়ার আসল ঢক ভৈভৈয়া হয়া উঠে।"  স্যালায় ঢকোতে ঢক আরও ফুটে ওঠে"জয় রাধে,'! যোদি মনোত জাগা করি নিবার পারে, রাধাগোবিন্দ।সদায় মনোত রাধা গোবিন্দ দিন আতি একে ভাবনা। গোসাই আরও কলেক," মুই গোসাই মাইনষি,মোর আর কোন ঢক নাই, "ঊষা ধান আর কোনদিন ভূটকায় না।" কোটে কার কোন সুমানি আর আম্পানের ঘুন্নি পাক আসি,যুয়ান বশের গোসাইর মনটাক পাঁকে পাঁকে ভাঙ্গি ঘটর মটর করি দিয়া গ্যইলেক।মনটাক  থিতু করির পায় না। মনে মনে ভাবি ঠিক করিল, পুটিমারীর নিপুচা দেওয়ানীর বাড়ী ছাড়ি দিয়া চলি যাবে। গাবুর চিকন আঁড়িটাও ভাবনা হাজার মনোত আসিলেও তো আর বাচ্ছা চেংড়াটাক ছাড়ি কোনটে যাবার পাবে না। ফিরি গ্যইল শশুড় বাড়ী।তার কয়দিন পরে যুয়ান বশের গোসাই,বোচকা, বোচকি,বান্ধাবান্ধি করি নিপুচা দেওয়ানীর  বাড়ী থাকি সেই  বাইর হয়া গ্যইলেক,আর ফিরি আসিল  না"। পুঁটিমারিত আর যুয়ান বশের গোসাইর মুখোত শুনা যয় না'জয়,রাধে,রাধে। কোটে গ্যইল যুয়ান বশের গোসাই,কাহোয় তাঁর খবর করে না।ক্যানে বা গ্যইল তারও খবর কাহো রাখে না। গাবুর চিকন আঁড়িটা আইত জাগি জাগি পহর গনে।ফিরি ফিরি উংয়ার চেংড়াটার মুখের দিকে চায়া চায়া থাকি ভাবে, মোর দেহার শুকান নদীত আর জোয়ার আসির দিম না। ঢ্যমনা গুলা বাঁহো মারার যতই ছোকবোক করুক, মোর মরা  নদীত আর কাকো নামির দিম না।

হামার বাও // জরীফ

Post a Comment

Previous Post Next Post