নেকার উপাদানের আও



সুশান্ত বর্মন
মানুষ প্রাচীনকাল থাকি নিজের মনের ভাবনা-চিন্তা স্থায়ী করি থুবার বাদে নানাভাবে চেষ্টা করি আসিবার নাকছে। আদিম গুহাবাসী মানুষগুলা পাহাড়-পর্বতের গুহার দেয়ালোত ছবি আঁকাআঁকি করছিলো। সেলা থাকি শুরু হইল মাইনষের নেখানেকি করার ইতিহাস। আইজ ভত্তুক মানুষ তার চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস-আবেগ, যুক্তি, তথ্যভায় ম্যালা বিষয়ত নিজের মত প্রকাশ করিয়া তা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ কইরবার চেষ্টা করি আসবার নাকছে। মানুষ প্রাচীনকাল থাকি ম্যালা ধন্নের প্রাকৃতিক আরো কৃত্রিম জিনিসোত নেখির চাইছে। মুই আইজ এই জিনিসগুলার কয়েকটার বিষয়ে একনা বর্ণনা করিম।

পাথর:
মানুষ এই জিনিসটাক পোথম কার কাজোত ব্যবহার করছে। ইয়ার আরেকটা নাম হইল 'শিলালিপি'। গ্রিস, সিন্ধু, আসিরীয়, সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, ভারতীয়, মিশরীয় সহ সগল প্রাচীন সভ্যতাত এই শিলালিপি পাওয়া গেইছে। ভারতোত পাওয়া সোগথাকি প্রাচীন যে শিলালিপি পাওয়া গেইছে ওটা হইল মহামতি অশোকের শিলালিপি ও স্তম্ভলিপিগুলা। ভারতীয় কবি সোমদেবের নেখা নাটক 'হরিকেল' ও 'ললিতবিগ্রহ' দুখান পাথরোত নেখা হছিল।সোগেরথাকি বিখ্যাত শিলালিপি হইল 'রোসেটা' পাথর। ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ন ১৭৭৯ সালে মিসর অভিযানে যায়্যা এই পাথরখান আবিষ্কার করে। মিসরের রোসেটা নামের জাগাত এইটা পাওয়া গেছিল বলি ইয়ার নাম রোসেটা পাথর। এই পাথরটাত তিনটা ভাষা নেখা আছিল। উপরোত প্রথেম নেখা আছিল মিসরের প্রাচীন 'হায়ারোগ্লিফিকস', পরেরটা ডেমোটিক ভাষা আর সবশেষে নিচোত নেখা ছিল গ্রিক ভাষাত। মাইনসে গ্রিক ভাষা বুঝবার পাইছিল, ডেমোটিক ভাষাখানও কিছু কিছু বুঝছিল, কিন্তু প্রাচীন হায়ারোগ্লিফিকস ভাষার কিছুই বুঝে নাই। গ্রিক ভাষার সংকেত ব্যবহার করি ভাষাবিজ্ঞান জ্যাঁ ফ্রাঁসোয়া শ্যাম্পোলিয় হায়ারোগ্লিফিকস ভাষা পইড়বার বুদ্ধি বাইর করি ফ্যালায়। ইয়ার ফলে পিরামিডের গা’ত নেখা নানান কাহিনী, ইতিহাস ইত্যাদি মাইনষে পড়বার সক্ষম হয়। পিরামিডের অনেক রহস্যময় অজানা তথ্য মাইনসের কাছে পরিষ্কার হয়্যা যায়।

গছের ছালবাকল:
পৃথিবীর নানান দেশের মানুষ গছের ছালত নেখানেকি করছিল। ভারতের মালাবার এলাকার মানষেরা আইজ ভত্তুক গছের বাকলত নেখানেকি করে। ভূর্জপত্র নামের বিখ্যাত লিখন উপাদান কোনাও এক ধরনের গছের বাকল। গছের বাকলের ভিতরের অংশক আগেকার দিনত 'লেবার' কইছিল। এই লেবার শব্দখান পরবর্তী যুগে লিব্রে (খরনৎব) শব্দে বদলি যায়। লাইব্রেরি শব্দের মধ্যে লিব্রে শব্দখান আছে।

গছের পাতা:
পদ্মপাতা কিংবা কলাপাতায় নেখার প্রচলন ভারতসহ গোটায় পৃথিবীত আছিল। তালপাতাত নেখার পদ্ধতি আবিষ্কার হয় ভারতোত। হামার দেশের বহু প্রাচীন বইপত্তর তালপাতাত নেখা হইছে। দক্ষিণ ভারতোত তালপাতায় নেখা হইছিল চোখা কাঠি দিয়া আর উত্তর ভারতোত নেখা হইছিল কালি দিয়া।

কাঠ:
প্রাচীন কালের গ্রিস, ব্যাবিলন ও চীনদেশে কাঠের তক্তার উপরোত মোম মাখিয়্যা উয়াতে নোহার শলাকা দিয়া আঁচর কাটি নেখা হইছিল।

মাটির টালি:
প্রাচীনকালের ব্যাবিলন দেশের মাইনষেরা মাটির টালির উপরোত নেখানেকি করছিল। বেশ কয়টা মাটির টালি দিয়্যা একের পর এক সাজাইয়া তৈয়ার করা হইছিল বই। পোথমে কাদা অবস্থাত তার উপরোত শক্ত কাঠি দিয়্যা নেখিয়া মাটির টালিখান রোউদোত শুকানো হইছিল। তারপর শুকন্যা মাটির টালি আগুনোত পুড়ি নিলে হয়্যা গেছিল বইয়ের একখান পাতা। এদন করি ইউরোপ, ভারত, চীন সহ বিশ্বের বিভিন্ন জাগাত মাটির টালিত মানুষ তার ভাবনাচিন্তা নেখি থুইছিল।

তুলা ও রেশমের কাপড়:
ইয়াক 'পট' কিংবা 'পটিকা' কয়। তুলা বা রেশমের কাপড়ের উপরোত ভাত বা ময়দার মাড় বেশি করি মাখি নিয়া রোউদত শুকা নাগতো। তারপর শুকন্যা কাপড়খান শংখ বা পাথর দিয়্যা ঘষি ঘষি পালিশ করা হইছিল। এদন করি ইউরোপত রেশমের বা তুলার কাপড় দিয়্যা নেখার উপাদান বানানো হইছিল। ভারতের মহীশুরে তেতুলের বীজ গুঁড়া করি আঠা বানেয়া কাপড়োত লাগানো হইছিল। চীনেও এদন কাপড় পাওয়া গেইছে।

হাতির দাঁত:
প্রাচীন গ্রিস, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও বারতোত হাতির দাঁতের উপরোত নেখানেকির নিদর্শন পাওয়া গেইছে। হাতির দাঁত পাতলা করি কাটি তাতে খোদাই করি নেখা হইছিল। অনেক জাগাত হাতির দাঁত কালো রং করিয়া তার উপরোত সোনা বা রূপার জল ঢালাই করি নেখা হইছিল।

তুলট কাগজ:
ভারতে দুই হাজার বছর আগে তুলট কাগজে নেখার প্রচলন আছিল। এইটা আসলে হাতে তৈয়ার করা কাগজ। এইটার অঙ হালকা হলুদ হইছিল। গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের সেনাপতি 'নিয়ারকোস' খ্রিস্টপূর্ব ৩২ সালে ভারতোত আসিছিলেন। তায় তখন এই কাগজ মানষেক ব্যবহার করবার দেখছিলেন। চীনা পরিব্রাজক ইৎসিং ৭ম শতকে ভারতোত এইটা দেখছিলেন। মধ্যযুগে মোগল রাজারা এই কাগজ খুব ব্যবহার করছিলেন। তুলা, ছেঁড়া কাপড়, পাটের আঁশ দিয়া এই তুলট কাগজ তৈয়ার করা হইছিল।

চামড়া:
জীবজন্তুর চামড়াত নেখার পদ্ধতি গোটায় পৃথিবীত আছিল। এর আরেক নাম পার্চমেন্ট। ভেড়া বা ছাগলের চামড়া দিয়্যা এইটা তৈয়ার করা হইছিল। ৩৫০০ বছরেরও আগোত এই জিনিসের উপর মানুষ নেখানেকি করছিল।

কাগজ:
চীনারা সবার আগেত কাঠ থাকি কাগজ তৈয়ার করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে। ১০৫ খ্রিষ্টাব্দে চীনাদেশে কাঠ, বাঁশ, কুশারের ছোবড়া দিয়্যা কাগজ তৈয়ার করা শুরু হয়।

ধাতু:
নানাধরনের ধাতুর উপর মানুষ অনেক আগে থাকি নেখানেকি করছিল। নোহা, তামা, সোনা, রূপা, সীসা, পিতল, টিন দিয়া পাত তৈয়ার করি তার উপরোত খোদাই করি মানুষ তার মনের ভাব নেকি থুইছিল। সারা পৃথিবীতেই এদন ধাতুর উপরোত নেখা পাত পাওয়া গেছে। তামার উপর নেখা পাতকে তাম্রফলক কওয়া হইছিল। সম্রাট অশোকের অনেক আদেশ তাম্রফলকে নেখা থাকা অবস্থায় পাওয়া গেইছে।মানুষ অন্যান্য প্রাণীর উপর ভাষাহীন, বোধহীন নোয়ায়। পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যামরা সচেতনভাবে চিন্তা করির পায়। আর সেই চিন্তা মানুষ তার পরের প্রজন্মকে জানবার বাদে নেকি রাখবার চাইছে। মানষের এই চাওয়া থাকি আবিষ্কার হইছে নানারকম লিখন উপাদানের। আধুনিক যুগে মানুষ কলম দিয়্যা নেখার যুগ পার করি প্রবেশ করছে কম্পিউটার যুগে। কম্পিউটারোত নেখিয়া সেই নেখা সিডি, মাইক্রোফিল্ম সহ আধুনিক প্রযুক্তি অনুযায়ী স্থায়ী করি আখিবার চায়। মানুষ দিনে দিনে আরও উন্নত জ্ঞান লাভ করিয়া আরও শক্তিশালী লিখন উপাদান আবিষ্কার করবে, সভ্যতা আরও আগি যাবে- আজকার সামাজিক বাস্তবতায় বিজ্ঞান সচেতন মানুষ এটায় আটুশ করে। 

( www.granthagata.com  ওয়েবসাইটে আগোত প্রকাশিত) 

Post a Comment

Previous Post Next Post