শ্রীমতি ময়নামতী




বিপুল রায়


“শশী দা, তোর ভাগিনীর খবর করির না যাইস?”বেটার মুখোত বাপ এমন কথা শুনি টৈস্যা নাগারে কথা।

 ‌‌‌‌        খবরের কাগজখান থাইয়া শশীমোহন বেটার পাখে দেখিয়া কইল, “তুই গাঞ্জা খাসিস নাকি রে রতন!” ... সম্ভবত এমনে হবে যে কুনো বাপের উত্তর। চাল-চলন ঠিক দেখি আর কিছু কইল না।

          বাপের আগত আর কিছু না কয়া রতন সোজা উয়ার মা’ক ড্যাকে কইল, “ভাত হইল, বৌদি? খুব ভোক নাগাইসে। মেলাদিন থাকি কিছুই খাং নাই!”

          বেটার মুখোত ‘বৌদি’ ড্যাক শুনি গৌরিও টৈস্যা নাগিল। টৈস্যা নাগার তো কথায়। আকার পার থাকি কইল, “ছুন্নি হাতাখান দিয়া তোক দাগেছোং এলায়!”

          “মুই আরও কি করিলুং! ভোক নাগাইসে– খাবারে তো চান্দালুং...”

          গৌরিও মুখ ভ্যাসেলে কইল, “ভোক নাগাইসে! কোটে থাকি আসিলু রে তুই?”

          “চকচকির পার থাকি।”

          “চকচকির পার! তুই তো এলায় মানষিটা খায়া গেলু, পাকটা ঘুরি আসিয়ায় এত ভোক নাগাইল! আর নিজের মা’ক কায় ‘বৌদি’ করি ডেকাইসে শুনোং!”

          “এলায় কোটে বৌদি! সেই কতদিন থাকি খাং নাই!”

          “আরও ‘বৌদি’! নিশা করিসিস নাকি রে তুই?”

          “নাই করোং নিশা-টিশা!”

  ‌        গৌরি আকার পার থাকি বিরি রতনের পাখে ভাল করি দেখিল। নজরটা কেনে যুনি পাল্টি গেইসে উয়ার! চোখু দুইটাও বড়ো বড়ো হইসে। আর সব থাকি বেশী অবাক করার মতন ঘটনা হইল– রতনের সিতাত ন্যালভ্যাল করি নাগা সেন্দুর! ঠোটোত লিপস্টিক নাগের ধরিসে! গৌরি এবারে বেশি অবাক হয়া কইল, “তুই সেন্দুর দিসিস কেনে রে!”

          রতন উয়ার মা’র ভিত্তি দেখি, ফ্যাক করি একটা হাসি দিয়া কইল, “সেন্দুর দিম না! সতী নারীক সবসমায় সেন্দুর দিবার নাগে, বৌদি। তাতে স্বোয়ামীর মঙ্গল হয়।”

          রতনের কথা শুনি গৌরি যুনি আকাশ থাকি মাটিত পড়িল! মনত খানেক সন্দেহ জাগিল। তায় পুছ করিল, “তুই কায় ক তো?”

          “তুই মোক চিনির পাইস নাই, বৌদি! মরিলুং বাপো! মুই শ্রীমতি ময়নামতী।”

          ‘ময়নামতী’ নামটা শুনিয়ায় গৌরির বুকের ধুকপুকি উঠিল। দেহার লোম খারা হইল। টুটি-মুখ শুকি যাবার মতন অবস্থা! বুকের ভিতিরা খানেক সাহস না থাকিলে এতক্ষণে বোধায় অজ্ঞান হয়া পড়িল হয় গৌরি। এক দৌড়ে শশীমোহনের গোর আসি থতমত হয়া, হবর-জবর করি কইল, “শুনেছেন, তোমার বেটাক আজি পেত্তানী ধরিসে!”

          কথাটা শুনার সাথে সাথে চমকি উঠিল শশীমোহন। “কি কইস তুই!”

          “বিশ্বাস যুদি না হয় তোমার, নিজে যায়া দ্যাখো উয়ার কান্ড!”

          গৌরির তমতমি দেখি অবিশ্বাস করির মতন কিছুই বাকি থাকিল না শশীমোহনের। সাথে সাথে চলি গেইল রতনের গোর। কিছু না কয়া দাঁড়ে দাঁড়ে বেটার কান্ড দেখির ধরিল। তাতেই রতন কইল, “শশী দা, তোর ভাগিনিরও খবর না করিস?”

          শশীমোহন কং না না-কং করিয়াও কইল, “তুই কায় ক তো! চিনির পালুং না তো তোক!”

          “তুইও মোক চিনির পালু না, দাদা! বৌদিও মোক চিনির পাইল না! মুই একেবারে এতটায় পর হলুং! মুই তোমার ময়নামতী।”


          ময়নামতীক চিনিবে না শশীমোহন! উয়ার একমাত্র আদরের বৈনি যে। চকচকি নদীর ওপারে খগেনের সাথে বিয়া হইসে। বিয়ার বছরখান নাই ঘুরিতে আত্মহত্যা করিল! চকচকি নদীর পারতে গতি করা হইসে। ইয়ার-উয়ার মুখোত শুনিসে শশীমোহন– শশুড় বাড়ির ঐত্যাচারে নাকি বেচারি ময়নামতী ফাঁসির দড়ি গালাত দিসে!... কেস-কারবারি অবশ্য কিছু করে নাই। যায় চলি-ই গেইসে, তার তানে বাকি জীবনগিলাও কেনে নষ্ট হয়– শশীমোহনের এই মানবিক বোধটা ছিলো বুলি খগেনের বাড়ির লোকগিলা সেদিন বাঁচি গেইসে।

          

          শশীমোহন কইল, “তুই যে কাহয় হ,‌ এই কাজটা কেনে করিলু?”

          রতনের উপর ভর করা ময়নামতী উত্তর দিল, “কি করিলুং মুই, দাদা! তোমারগিলার সাথে যে দেখা করির মন গেইসে...।”

          “দেখা করা হইসে– এলা চলি যা।”

          “তুই মোক খ্যাদে দিছিস, দাদা!”... ‘হা হা হা’ করি ভয়ঙ্কর একটা হাসি দিল।

          শশীমোহন দুই হাত জোড় করি কয়, “তুই এলা অশরীরি, ময়না! দোহাই নাগে তোক– চলি যা।”      

          গৌরি ততক্ষণে আরও কয়েকজনোক ড্যাকে আনিল। রতনের কান্ড দেখি সগায় অবাক! ফাকোতে ‘হা হা হি হি’ করি হাসি উঠেছে বারবার! আয়না দেখি চোখুত ভটভট করি কাজল নাগাছে! মানষিটার চেহারাটায় ভূতের মতন হয়া গেইল কিছুক্ষণের মইধ্যে! গণেশ কইল, “ময়না, যাবু না নাই তুই?”

          “যাম না। কি করিবু রে তুই– খগেশ্বরের বেটা। দেউনিয়া হয়া গেসিস নাকি!”...আগতও ঠিক এই ধাঁচে ময়না কথা কইসে গণেশের সাথে।

          “কি চাইস তুই, ক?”

          গণেশের কথার কুনো উত্তর দিল না ময়না। জোরে জোরে খালি ‘হুমম... হুমম...’ করি ঘন ঘন নিক্কাশ ছাড়িল।


          ইয়ার মইধ্যে সুধাংশু– শঙ্কর কবিরাজের বাড়িত যায়া হাজির। ময়না ‘হা হা’ করি হাসিয়া কইল, “সুধাংশুটা আরও কবিরাজের বাড়ি গেইসে! শঙ্করের বাড়ি! ঐতো ডাকালিত বসিসে। শঙ্করটা বাতা মাঠাছে। একখান বসিবার জিনিসও দ্যায় নাই উয়াক! শঙ্কর মোর কিছু করির পাবে না রে, গণেশ। উয়ার বাপের হিম্মৎ নাই এই বাড়িত ঢুকে।”... আস্তে আস্তে ময়নার আসল রূপটা বিরি আইসেছে। আরও একবার সেই হাসিটা দিল। কি ভয়ঙ্কর হাসি!

          সুধাংশুর সাথে শঙ্কর কবিরাজ আসিল। রতন খুব ছটফট ছটফট করেছে। জোরে জোরে ‘হুমম... হুমম...’ করি নিক্কাশ ছাড়ির ধরিল। “মুই ময়নামতী। শ্রীমতী ময়নামতী। আয় রে শঙ্কর আয়। তোর বাপের হিম্মৎ থাকিলে বাড়ির ভিতিরা ঢুক। নিজের ভাল চাইস তে– এলায় ফিরি যা।”

          তোতকোরায় শঙ্কর কবিরাজের ক্ষমতা হইল না– বাড়ির ভিতিরা ঢুকে! একটা অদৃশ্য শক্তি যুনি আটক করি দিল উয়াক! আসলে ময়নামতী বাড়িটাক বন করি ফেলাইসে। যার কারণে শঙ্কর কবিরাজ তো কি, যে কুনো কবিরাজের বাপের হিম্মৎ হবে না বাড়িটার ভিতিরা ঢুকে! তাহলে কি এই অদৃশ্য আত্মার সাথে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানষিও হার মানিবে? এইটা তো হয় না। সৃষ্টি-ধ্বংস সবে মানষির হাতোত। নিশ্চয় এই সমস্যারও সমাধান আছে। শঙ্কর কবিরাজ ধুপ করি মাটিত জাম্বুরা পাড়ি বসি, চোখু দুইটা বন্ধ করি, প্রথমে মা কালীর জপ করি কি কি সব মন্তর এক নিক্কাশে শ্যাষ করি কইল, “দেখা যাউক শ্রীমতী ময়নামতী কত বড়ো, আর মুই কত বড়ো। উয়াক (রতনের পাখে নেঙুল দ্যাখে কইল) বাড়ির বায়রা বাইর করো।”

          রতন খালি হিদি-হুদি ছটফটে বেরাছে বাড়ির ভিতিরাতে। যে হারে জোরে জোরে ঘন নিক্কাশ ছাড়ির ধরিল– ভয়ে কাহ উয়ার বগল চাপির পাইল না! “পাবু না রে শঙ্কর– তুই মোর কিচ্ছু করির পাবু না। ভাল চাইস– এলায় চলি যা।”

          ময়নামতীর এই কথার জবাবে শঙ্কর কবিরাজও কইল, “কিচ্ছু করির পাইম না তো। আয়– বাড়ির বায়রা বিরি আয়। দেখা যাউক কায় কত বড়ো! আর না হলে বন কাট। মুইয়ে বাড়ির ভিতিরা ঢুকেছোং। সেলায় দেখা যাবে কার কত দম।”

          ‘হুমম... হুমম...’ করি নিক্কাশ ছাড়ি আরও ময়নামতী কইল, “ফিরি যা রে শঙ্কর। বাঁচির চাইস যুদি– ফিরি যা তুই।”

          দুইজন হাট্টাকাট্টা চেংড়া একসাথে আগে গেইল রতনক ধরি বাড়ির বায়রা নিকিলাবে বুলি। কিন্তু এক ঝটকায় রতন দুইজনোকে ফ্যালে দিল! এত শক্তি ময়নামতীর! যুদ্ধে যুনি ময়নামতীরে জয় হইল– উয়ার ভয়ঙ্কর হাসি দেখি সেইটায় মনে হয়। এবারে আরও কয়েকজন চেংড়া মিলি ধরি-বান্দি রতনোক বাড়ির বায়রা বাইর করিল। শঙ্কর কবিরাজও হয়তো সাথে সাথে বন করি ফেলাইসে ময়নামতীক। তাও ময়নামতীর ত্যাজ গেইল না!

          একটা যজ্ঞকুন্ড বানে একপাখে শঙ্কর কবিরাজ নিজে বসিল আরেক পাখে বসাইল রতনোক। রতন ‘হুমম... হুমম...’ নিক্কাশ ছাড়ি মাথা ঝকেবার ধরিল। শঙ্কর কবিরাজ এক নিক্কাশে কি কি সব মন্তর উচ্চারণ করির ধরিল। ময়নামতীক সহজে বস করা মুশকিল– শঙ্কর বুঝির পাইল। ময়নামতী ‘হা হা হা’ করি সেই হাসিটা দিয়া আরও কইল, “এলাও সমায় আছে রে শঙ্কর– যা ফিরি যা।”... শঙ্কর কবিরাজ কুনো উত্তর দিল না। নিজের মতন করি মন্তর উচ্চারণ করি চলেছেই...।

          একটা সমায় রতন যজ্ঞশালাতে ‘‘জয় মা কালী’’ কয়া চিকিরি উঠি, ভৈরবী নাচ শুরু করিল। অবাক হয়া গেইল শঙ্কর কবিরাজ সহ বাকি মানষিগিলাও। রতনের মুখেই ময়নামতী কইল, “নরবলী নাগিবে মোক রে শঙ্কর। মুই স্বয়ং মা কালীর ভক্ত। তুই মা কালীক ড্যাকেয়া কি করিবু। জয় মা কালী।”

          “অসম্ভব” কয়া গিজ্জি (গির্জি) উঠিল শঙ্কর কবিরাজও।

          “নররক্ত না খাইলে মুই এক পাও নড়িম না।”... কয়ায় শঙ্কর কবিরাজের বুকোত এক গুড়ি মারিল। চটকি যায়া পড়িল শঙ্কর কবিরাজ। বুকের বাতা হয়তো ভাঙিও গেইসে গুড়ি খায়া! সগায় ভয়তে কাবু। এতবড়ো একজন কবিরাজ হয়া যুদি উয়ায়ে কিছু করির না পায়– তাহলে ফির কার ক্ষমতা আছে ময়নামতীক খেদায়!... তবে, শঙ্কর কবিরাজও সহজে হার মানিবার মানষি না হয়। ঠাকুরদারটে থাকি কবিরাজি দীক্ষা নিসে। আরও উঠি আসিল উয়ায়। অগুনোত ধূনা দিয়া বুল্লুস বুল্লুস ধোমা নিকিলি ধাকুরি মন্তর উচ্চারণ করির ধরিল। 

          এবারে ব্যাতচালা শুরু করিল শঙ্কর কবিরাজ। পারাস পারাস শব্দ উঠিল রতনের পিঠি থাকি। ভটভট করি ভোমাছাল উঠিল পিঠিত। দেখিয়া চোখুর জল আটকের পাইল না গৌরি আর শশীমোহন।... খবর পায়া খগেনও ততক্ষণে আসি উপস্থিত। খগেনোক দেখি ব্যাতচালা বন্ধ করিল শঙ্কর কবিরাজ। এইবারে খেলা জমিবে। শঙ্কর কবিরাজ চিকির উঠিল, “তুই নরবলী চাইস শ্রীমতী ময়নামতী? নররক্ত নাগে তোক?”

          “হ্যাঁ, মোক নররক্ত নাগিবেই। তা না হলে মুই এটে থাকি এক পাও নড়িম না।”

          খগেনোক গোরত বসে শঙ্কর কবিরাজ কইল, “এই নেক নর। দেক বলী। আনো রে, দাও আনো।”... শঙ্করের এই কথা শুনি টুটি মুখ শুকি গেইল খগেনের। গৌরি অজ্ঞান হয়া মাটিত পড়িল। শশীমোহনও দীশাহারা! খগেনোক দেখি হয়তো ময়নামতীর ত্যাজ কমি গেইল। খানেক দমিল। ‘হুমম... হুমম...’ নিক্কাশ ছাড়ি চুপচাপ থাকিল। শঙ্কর কবিরাজ আরও চিকিরান দিল, “দাও আনো রে...।”... ভিড়ের মইধ্য থাকি একজন দাও আনি শঙ্কর কবিরাজরে হাতোত দিল। দাওখান হাতোত নিয়া কি সব মন্তর কয়া ফোঁকা-ফোঁকি করিল উয়ায়ে জানুক।‌ খগেনোক মাটিত সকসক করি থাকির কয়া, দাওখান ময়নামতীর পাখে আগে দিল। ময়নামতী দাওখান নিবার সাহস পাইল না। ক্যামন করি এই নরবলী দিবে উয়ায়! নিজের স্বোয়ামীক কি কাহ বলী দিবার পারে!... শঙ্কর কবিরাজ গিজ্জি উঠিল, “কি হইল শ্রীমতী ময়নামতী– এই নে দাও। দেক বলী।”

          “নরবলী না নাগে শঙ্কর দা। পাঁঠাবলী দিলেও হবে।”... এই কথাতে বুঝা গেইল, ময়নামতীর ত্যাজ কমি গেইসে।

          শঙ্কর কবিরাজ আরও কইল, “না না, পাঁঠাবলী তো হবে না। তুই নরবলী চাসিস– নিজে হাতে দেক নরবলী। পাঁঠা এলা কোটে পাই হামরা। পাঁঠাবলী হবে না।”

          “রক্ত না পাইলে মোর আত্মা শান্তি পাবে না শঙ্কর দা!” কান্দির ধরিল ময়নামতী।

          “তুই তো নিজেই একটা অতৃপ্ত আত্মা। তোর আরও কোটে থাকি আত্মা আসিল শুনোং! আচ্ছা, ঠিক আছে। পাঁঠাবলী পাইলে তুই চলি যাবু তো?”

          “হ্যাঁ, চলি যাইম।”

          “আর কাহকো কুনোদিন ধরিবু না, কিরা খা।”

          “ধরিম না।”

          “আর যুদি ধরিস?”

          “কথা দিলুং– কাহকে কুনোদিন ধরিম না।”

          “ক্যামন করি তোক বিশ্বাস করি হামরা?”

          “যুদি বিশ্বাস না হয়, মোক যা শাস্তি দিবেন মাথা পাতি স্বীকার করিম সেলা– কথা দিলুং।”

          “আচ্ছা বেশ। আনো রে, পাঁঠা আনো। ময়নামতীর ইচ্ছা পুরোন করো। আর... তুই যে চলি যাবু– তার প্রমান কি?”

          “উত্তর পাখের বড়ো কদম গছটার একটা ডাল ভাঙি দিয়া যাইম।”

          “আচ্ছা বেশ...।”

          শ্রীমতী ময়নামতীক পাঁঠার রক্তে সন্তুষ্ট করা হইল। অজ্ঞান হয়া মাটিত পড়িল রতন। উত্তর পাখের বড়ো কদম গছের ডালটাও হিরিম করি ভাঙি পড়িল।

           মরার পরেও শ্রীমতী ময়নামতী স্বোয়ামীর মঙ্গল চায়। তা না হলে– নরবলী ছাড়া হয়তো উয়াক সহজে মানে নেওয়া মুশকিল ছিলো! হয়তো বা হার মানির নাগিল হয় শঙ্কর কবিরাজোকও!

তারিখ: 15.10.2021

Post a Comment

Previous Post Next Post